Power of attorney Bangladesh

+8801929125100

ল ‘হিসাব’। মূলত জমির মালিকানা স্বত্ব রক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য জরিপ বিভাগ কর্তৃক প্রতিটি মৌজার জমির এক বা একাধিক মালিকের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, ঠিকানা, দাগ নম্বর, ভূমির পরিমাণ, হিস্যা(অংশ), খাজনা ইত্যাদি বিবরণসহ যে ভূমি স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।
বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) হিসাব করে (ক)মোট মূল্য অনুর্ধ ৩ লক্ষ টাকা হলে ৫০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (১) অনুসারে)। (খ) মোট মূল্য অনুর্ধ ১০ লক্ষ টাকা হলে ৭০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (২) অনুসারে)। (গ) মোট মূল্য অনুর্ধ ৩০ লক্ষ টাকা হলে ১২০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (৩) অনুসারে)।
মুসলিম আইনে উত্তারাধিকার সম্পত্তি বন্টনের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের উপর প্রতিষ্ঠিত। মুসলিম আইনে মোতাবেক সম্পত্তি বিলি বা বন্টনের নিয়মে ফারায়েজ বলে। মুসলিম স্কুল অব ল এর বিভিন্ন শাখায় সম্পত্তি বন্টনের আলাদা নিয়ম প্রচলিত আছে। যেহেতু আমাদের দেশে সুন্নি মুসলমানদের অনুসারী বেশী কাজেই, নিম্নে হানাফী আইন মোতাবেক উত্তরাধিকার উল্লেখ করা হল-
দলিল সম্পাদন বা গ্রহণের জন্য পক্ষগণকে চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হয়। অর্থাৎ সম্পাদন কারী অবশ্যই সাবালক হবে, সুস্থ্য বুদ্ধি সম্পন্ন  এবং বাংলাদেশের নাগরিক হইবে। কোন শত্রু দেশের নাগরিক অথবা আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত ব্যাক্তি অথবা মাতাল ও নেশাগ্রস্ত হইয়া হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য অবস্থায় দলিল সম্পাদন করিয়া দিলে তাহা বাতিল হিসাবে গণ্য হবে।
জমির মালিকানা প্রমাণের অন্যতম একটি ডকুমেন্ট খতিয়ান। সরকারী এ রেকর্ড জমির দালিলিক দখল এর প্রমান হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারনত জেলা প্রশাসকের অফিস হতে খতিয়ান সংগ্রহ করতে হয়। তবে, এ পদ্ধতিতে বেশ ঝামেলা ও সময় অপচয় হয়। সরকারের অনলাইন কর্মসূচীতে তাই খতিয়ান প্রাপ্তি সেবাকে অনলাইনে রূপ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে খুব সহজে ঘরে বসেই অনলাইনে খতিয়ান চেক করতে পারবেন। প্রয়োজনে তা ডাউনলোড করে বা প্রিন্ট করে সংগ্রহে রাখতে পারবেন।
বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে স্থাবর সম্পত্তির উন্নয়ন, ক্রয়ি-বিক্রয়, নির্মাণ ও রক্ষনাবেক্ষন এর জন্য রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ নামে একটি আইন আছে। এতে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার নিবন্ধন, ডেভেলপারের দায়-দায়িত্ব, ভূমির মালিক কর্তৃক রিয়েল এস্টেট নির্মাণ, রিয়েল এস্টেট ক্রয়-বিক্রয়ের শর্তাবলী, হস্তান্তর দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন করা, ভূমি মালিক ও ডেভেলপারের মধ্যে চুক্তি, রিয়েল এস্টেট এর সুবিধাদি, রিয়েল এস্টেট এর মূল্য পরিশোধের নিয়মাবলী, রিয়েল এস্টেট এর সেবাসমূহ, ক্রেতা কর্তৃক এককালীন মূল্য বা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতা
আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রকারের দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর বা মালিকানা বদলী হয়ে থাকে । মালিকানা বদলী বা হস্তান্তরের উপর ভিত্তী করে দলিল সম্পাদনের ধরন নির্বাচন করা হয়। আমাদের দেশে সর্বাধিক প্রচলিত দলিলের পরিচিতি ও ব্যাবহার একে একে বর্ণনা করছি-
বাংলাদেশের আদালতে যত মামলা-মোকদ্দমা আছে তার একটা বড় অংশই জমিজমাকে কেন্দ্র করে। জমি কিনে প্রতারিত হওয়া, জমি থেকে বে-দখল হওয়া, জবর-দখলের চেষ্টা, দলিল ও খতিয়ানের সমস্যা, ওয়ারিশান জমির বন্টন সহ জমিকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় ব্যাপক হারে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের হয়ে থাকে। সম্পত্তি বেদখল বলতে বোঝায় প্রকৃত মালিক বা দখলদারকে তার দখল থেকে জোর করে উচ্ছেদ করা অথবা অবৈধভাবে সেখানে অন্য ব্যক্তির দখল প্রতিষ্ঠিত করা। আমাদের দেশে লাখো মানুষ আছে যাদের বৈধ মালিকানা থাকলেও প্রভাবশালীদের দ্বারা অবৈধ ভাবে বে-দখল হয়ে আছে।